বিগত ৫ বছরে মাননীয় স্পিকার তথা বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক শ্রী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভ প্রচেষ্টায়, বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্ক, ফ্রী সিটি স্ক্যান, ন্যায্য মূল্যের ঔষধের দোকান প্রভৃতি চালু করার মাধ্যমে শুধু এই হাসপাতালকে প্রকৃত মহকুমা হাসপাতালে রূপায়ণ করেছেন তাই নয় বরং ওনার উদ্যোগে আজ বারুইপুরবাসী বারুইপুরের বুকে একটি সুসজ্জিত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালও উপহার পেয়েছে, যেটি খুব শীঘ্রই সমস্ত ধরণের স্পেশালিটি পরিষেবা সহ চালু হবে। 

কিন্তু বর্তমানে এই বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে কিছু চালু পরিষেবা প্রকৃত অর্থে মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে না, যেগুলিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলেই বাড়তি কোন সম্পদ ছাড়াই পৌঁছে দিতে পারে কিংবা সেগুলিকে সংশোধন করতে পারে। সেগুলিকেই খুঁজে টিম বারুইপুর বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করছে। কোন সমালোচনা নয়, কোন নিন্দা নয় কেবলমাত্র প্রশাসনের নজরে আনার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলি তুলে ধরা হল।

(১) বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে দিবারাত্র ডেলিভারি হয়, প্রসূতি বিভাগে ডাক্তার বাবুরা on call – এ থাকেন। কিন্তু রাত্রি বেলায় হাসপাতালে কোন শিশু বিশেষজ্ঞ থাকেন না, ফলে সদ্যজাত কোন শিশু অসুস্থ হলে তাকে রেফার করা ছাড়া গতি নেই।

(২) রাত্রি বেলা শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বাবুদের মতোই কোন মেডিসিনের ডাক্তার বাবুও থাকেন না। Cardiac disease / CVA – এই সমস্ত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে রেফার করা ছাড়া তাই গতি নেই, যেখানে হাসপাতালের বাইরে রাতের বেলা চলে আম্বুলেন্স রাজ, বিশেষ কয়েকটি ক্লাব / সংস্থার আম্বুলেন্স ছাড়া এদের ভাড়া ১২০০/১৪০০ থেকে শুরু হয়। সেই সঙ্গে রাত্রে হাসপাতাল প্রশাসনের কেউ থাকেনা, ফলে অসহায় রোগীদের প্রশাসনিক কোন সহায়তাই মেলে না।

(৩) হাসপাতালের মধ্যে পুলিশ camp থাকা সত্ত্বেও রাত ১০ টা থেকে সকাল ৮ – ৯ টা পর্যন্ত কাউকে Emergency চত্বরে দেখা যায় না। আর Security Staff হাসপাতাল কর্তৃক যারা নিযুক্ত তাদের  বসার জায়গা ডাক্তারবাবু ও Emergency ঘরের থেকে প্রায় ৩০ ফুট পেছনে। ফলে হাসপাতালের স্টাফ ও সম্পত্তির কোন সুরক্ষা নেই বললেই চলে।

(৪) হাত, পা ভেঙ্গে গেলে আজ ডাক্তারবাবু x- ray করাতে বললে ডেট পাওয়া যায় ১৫ দিন থেকে ১ মাস বাদ, আর কোমর – এর  x- ray  ১ মাস বা তারও বেশি।

 BaruipurHospital1
(৫) হাসপাতালের ভেতরে যে ড্রেন তা দিয়ে জল বা আবর্জনা মিউনিসিপালিটির ড্রেনের মুখের কাছে ময়লা জমে থাকার দরুন মেশে না, ফলে ভেতরকার ড্রেন প্রায় উপচে পরছে।
BaruipurHospital2

বর্তমান বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল যা কিনা শুধু এই মহকুমা নয় দূর-দূর থেকে রোগীরা চিকিৎসা করতে আসেন আর কিছু পরিষেবাগত  ঘাটতি আছে যেগুলি মানুষের স্বার্থে তুলে ধরা হল। শীঘ্র সমস্যাগুলির সমাধানের আশা রইল।

Leave a Reply