নিজস্ব প্রতিনিধি, বারুইপুর; তক্ষক পাচার করতে গিয়ে সোনারপুরের দুই স্কুল শিক্ষককে হাতে নাতে ধরল রাজ্যের বনপ্রান দপ্তর ও বন্য প্রান অপরাধ দমন শাখা। দুই শিক্ষকের কাছ থেকে প্রমান সাইজের চারটি গোল্ডেন তক্ষক উদ্ধার করেছে বন দপ্তর। ধৃতরা হলেন দীপঙ্কর মণ্ডল(৩৪) ও সুব্রত হালদার(৩৯)। দুই জন বারুইপুরের হিমচির অবৈতনিক স্কুলের শিক্ষক। ধৃত সুব্রত হালদার তৃণমূল-কংগ্রেসের প্রাথমিক শিক্ষা সংগঠনের নেতা বলে এলাকায় পরিচিত। এদের বিরুদ্ধে ওয়াইল্ড লাইফ অ্যাক্টের ৯, ৩৪, ৩৯, ৪৯বি ও ৫০ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বন দপ্তর সুত্রে খবর, কিছু দিন আগে তারা খবর পায় সোনারপুরের গড়িয়া অঞ্চলে বন্য প্রান পাচারের চক্র গড়ে উঠেছে। সেই মত এদিন সূত্র মারফত খবর পেয়ে গঙ্গাজোয়ারা নয়াবাদ এলাকায় দীপঙ্কর মণ্ডলের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় রাজ্যের বনপ্রান দপ্তর ও অপরাধ দমন শাখা। ৫ লক্ষ টাকায় ৪ টি গোল্ডেন তক্ষক কিনবে বলে বন দপ্তরের আধিকারিকরা এদিন ক্রেতা সেজে দীপঙ্কর মণ্ডলের বাড়িতে যান। সেখানেই তক্ষক বিক্রি করার সময় হাতে নাতে উদ্ধার হয় বিরল প্রজাতির তক্ষক।

দুই স্কুল শিক্ষক এই তক্ষক পাচারের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরেই। জানা যায়, নতুন বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন সোনারপুরের হিমচির অবৈতনিক স্কুলের শিক্ষক দীপঙ্কর মন্ডল, সুব্রত হালদার। তাদের কাছে ৫ টা তক্ষক ছিল, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। এদিন বন্য প্রান অপরাধ দমন শাখা ধৃত শিক্ষকদের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে। মোবাইল থেকে বহু সন্দেহজনক ব্যক্তির ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে। তক্ষক বিক্রি করা, মারা, ধরা অপরাধ। এই জন্য জেল হতে পারে। এদিন বন্য প্রান অপরাধ দমন সল্টলেক অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করে এই কথা জানান কর্তারা। ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃতরা জানিয়েছে তাঁরা আগেও তক্ষকসহ অন্য বন্যপ্রাণী পাচার করেছে। ধৃতদের শনিবার বারুইপুর আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here