সত্যজিৎ ব্যানার্জি, বারুইপুর; মেয়ের বিয়ের আয়োজন প্রস্তুত। মেয়ের গায়ে হলুদও পড়ে গিয়েছে। শুক্রবার সন্ধে ৬-৫৫ মিনিটে বিয়ের লগ্ন। বিয়ে ঘিরে বাড়ি সরগম আত্মীয় পরিজনে। আচমকা মেয়ের মোবাইলে ওপার প্রান্ত থেকে এক গোপন ফোনে বিয়ে গেল ভেঙে। বিয়ে করতে আসার বদলে পাত্র বরের ঠাই হল শ্রীঘরে।

ধৃতের নাম তাপস পাইক। বাড়ি জয়নগরের রামকৃষ্ণপুরে। বারুইপুর থানার পুলিশ বিয়ের আসরে হাজির হয়ে পাত্র শ্রীমানকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে খবর, বারুইপুরের ধপধপির বাসিন্দা জগদ্ধাত্রী মণ্ডলের মেয়ে সুপর্ণা দক্ষিন বারাসাত কলেজ থেকে বিএ পাশ করেছে। তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল শুক্রবার সন্ধ্যেতে জয়নগরের রামকৃষ্ণপুরের তাপস পাইকের সাথে। দেখা শোনা করেই মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিল জগদ্ধাত্রী মণ্ডল।

অভিযুক্ত পাত্র

এদিন সকাল থেকেই বাড়িতে এসে গিয়েছিল লোকজন। মহা ধুম ধাম, বিয়ের প্যান্ডেল প্রস্তুত, মেয়ের গায়ে হলুদও হয়ে গিয়েছে। এমন সময় সুপর্ণার মোবাইলে এক অজ্ঞাত পরিচয় নম্বর থেকে ফোন আসে, ফোন ধরে মেয়ের মা জগদ্ধাত্রী মণ্ডল। ওপার প্রান্তের ফোন থেকে বলা হয় যে পাত্রের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে সে ১৪ দিন জেল খেটেছে বধূ নির্যাতনে, এমন পাত্রের হাতে বিয়ে দেবেন না। ফোনে একথা শুনেই মাথায় আকাশ ভেঙে পরে সুপর্ণার মার। পাত্রকে জয়নগর থেকে ধরে আনা হয় পাত্রীর বাড়িতে। পাত্র নিজের মুখে অপরাধ স্বীকার করে নেয়। খবর দেওয়া হয় বারুইপুর থানায়। সে জানায় জয়নগরের তিলি পাড়ার এক মেয়ের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পাত্র সমেত তার মামা ও মেসোকে ধরে নিয়ে আসে থানায়। সুপর্ণাও অবাক এই ঘটনায়। বিয়ে ভেঙে গেলেও তাদের একটাই আফসোস কার হাতে মেয়েকে তুলে দিচ্ছিলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here