সত্যজিৎ ব্যানার্জি, বারুইপুর; আবারও পুলিশি তৎপরতায় গ্রেপ্তার হল ৫ কুখ্যাত বাংলাদেশী জলদস্যু। মৎস্যজীবিদের নৌকায় ও মধু সংগ্রহকারীদের বোটে ডাকাতির ছক বানচাল করল পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে বারুইপুর পুলিশ জেলা সুপার অরিজিত সিনহার নির্দেশে বারুইপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের ওসি লক্ষীকান্ত বিশ্বাস এর নেতৃত্বে বিশেষ টিম ও কুলতলি থানার ওসি পার্থসারথি ঘোষের নেতৃত্বে কুলতলি থানার পুলিশ সুন্দরবনের মাতলা নদীতে একযোগে লঞ্চ নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে কৈখালী জঙ্গলের কাছে, কৈখালী শ্মশান ঘাটের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করে কুখ্যাত ৫ বাংলাদেশী জলদস্যুকে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হল ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৫ টি পাইপগান, ১ টি এক নলা বন্দুক, ৭ টি তাজা বোমা, একটা মোবাইল, ৩ টি বাংলাদেশের সিমকার্ড। ধৃতদের নাম মহম্মদ আব্দুল রহমান মোড়ল, মিসবা গাজি, জাকির শেখ, আব্দুল্লা আল মামুন, জাহাঙ্গীর আলম গাজি। এরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের সাতক্ষিরা, সোরা এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের শনিবার দুপুরে বারুইপুর আদালতে তোলা হয়। ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পুলিশ দলের পাণ্ডা বাবুর সন্ধানে তল্লাশি চালাবে।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্র।

শুক্রবার রাতে বারুইপুর পুলিশ জেলা দপ্তরে খবর আসে কুলতলির কৈখালীর কাছে ৫ বাংলাদেশী জলদস্যু মাছ ধরার বোট নিয়ে কোথাও যাবার পরিকল্পনা করছে। সেই মত বারুইপুর পুলিশ জেলা সুপার অরিজিত সিনহার নির্দেশে বারুইপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের ওসি লক্ষীকান্ত বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশেষ টিম রাতেই রওনা দেয় সুন্দরবনের কুলতলি। সাথে কুলতলির থানার ওসি পার্থ সারথি ঘোষকে নিয়ে রাত ১২-৩০ টার পর তারা লঞ্চ নিয়ে মাতলা নদীতে তল্লাশি চালায়। পুলিশের লঞ্চ থেকে টর্চ ফেললে তারা জলে নেমে পালিয়ে যেতে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ ঝাঁপিয়ে পরে রাত ১-৩০ টার সময় হাতে নাতে গ্রেপ্তার করে পাঁচ জলদস্যুকে। এক জন পালিয়ে যায় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে।

পুলিশ জানায়, গত ২৩শে মার্চ পুলিশের সাথে দত্তা নদীতে জলদস্যুদের গুলির লড়াইয়ের পর চার জলদস্যুকে পিরখালি জঙ্গলের কাছ থেকে ধরা হয়েছিল। কয়েকজন পালিয়ে গিয়েছিল সেই দলের। এরা সেই দলের সদস্য। এরা বিএসএফের নজরদারি এড়িয়ে হেমনগর, সন্দেশখালির জলপথ দিয়ে বার বার জঙ্গলে ঢুকে পড়ছে। ৫-৬ মাস ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন জঙ্গলে এরা গা ঢাকা দেয়। তারপর সুযোগ বুঝে মাছ ধরার নৌকা ও মধু সংগ্রহকারীদের বোটে ডাকাতি করে লুঠ করে। এদিন এরা তাই পরিকল্পনা করেছিল। ডাকাতি করার পর এরা বাংলাদেশের সাতক্ষিরায় চলে যেত। বিএসএফের নজদারির গাফিলতির জন্যই এরা সহজে ঢুকে পড়ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here