সত্যজিৎ ব্যানার্জি, বারুইপুর; শ্বশুর বাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতার নাম রুমা অধিকারী বৈদ্য (২৩)। ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকালে বারুইপুর থানার রানা বেলিয়াঘাটায়। উত্তেজিত বাসিন্দারা ও পরিবারের লোকজন অভিযুক্ত স্বামী নিতাই বৈদ্যকে উত্তম মধ্যম দেয়। পরে বারুইপুর থানার পুলিশকে খবর দেয়। বারুইপুর থানার পুলিশ বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ স্বামীর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে তাদের মেয়ে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামী নিতাই বৈদ্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে খবর, বারুইপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাসন পালপাড়ার বাসিন্দা স্বপন অধিকারীর মেয়ে রুমার সাথে দেখা শোনা করেই তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছিল বারুইপুরের রানা বেলিয়াঘাটার বাসিন্দা নিতাই বৈদ্যর সাথে। নিতাই বারুইপুরে ফার্নিচারের দোকানে কাজ করে।

এই প্রসঙ্গেই মৃতার বাবা স্বপন অধিকারী জানায়, বিয়ের পর থেকে মেয়েকে মদ্যপ অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত জামাই। কোন সন্তান হয়নি এই নিয়ে অশান্তি আর নিজের স্ত্রী বাইরে কোথাও গেলে, দেরি হলে সন্দেহ করে মারধোর করত। এর আগে সিগারেটের ছ্যাকাও দিয়েছিল জামাই। স্বামীর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এর জন্য কয়েক মাস আগে মেয়ে বাপের বাড়ি চলে আসে। তারপর জামাই আর অত্যাচার করবে না জানিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শ্বশুর বাড়ীতে। তারপরও অত্যাচার করতো। এমনকি এদিন সকালে মেয়ের মৃত্যুর খবরও জামাই দেয়নি। মিস কল দেয় আমার এক আত্মীয়কে। এর পর আমরা সন্দেহ করে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়ের মৃতদেহ। আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমি জামাইয়ের উপযুক্ত শাস্তি চাই। এদিকে ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here