সত্যজিৎ ব্যানার্জি, বারুইপুর; জেলার প্রতি হাসপাতালে চার জন করে গ্রুপ ডি কর্মী নেওয়া হবে। শুরুতেই মাইনে ১৩ হাজার করে। চাকরি হবে ওয়ার্ড বয়। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালেই গ্রুপ ডি নেওয়া হবে। কিন্তু এর জন্য দিতে হবে ২ লক্ষ টাকা। এমন লোভনীয় অফার দেওয়া হয় উস্থির বাসিন্দা সাহির মাসুদকে। এই প্রস্তাব দেয় তারই এলাকায় থাকা লতিফ সরদার। নিজের উচ্চ মাধ্যমিক পাশ ভাইয়ের জন্য এই প্রস্তাব লুফে নেয় সাহির মাসুদ। এর জন্য শুক্রবার বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের বাইরে লতিফ সরদারের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া সাহিল গুপ্ত এর কাছে দেড় লক্ষ টাকা তুলে দেয় উস্থির সাহির মাসুদ। এমনকি তাকে চাকরির আই কার্ড দেওয়া হয় তাতে লেখা বারুইপুর ইএসআই হাসপাতাল, ওয়ার্ড বয়। তা দেখে সন্দেহ হয় উস্থির বাসিন্দা সাহির মাসুদের। তা দূর করতে সাহির শনিবার দুপুরে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার শ্যামল চক্রবর্তী এর সাথে দেখা করতে যান। সাহিরের কাছে সব শুনে অবাক হয়ে যান শ্যামল বাবু। এর পর সাহির কে দিয়ে প্রতারক সাহিল গুপ্তর কাছে আরও দেড় লক্ষ টাকা দেবার প্রস্তাব দেওয়া হয় তার এক ভাইয়ের চাকরির জন্য।

এদিকে অতিরিক্ত সুপার শ্যামল বাবু হাসপাতালের দায়িত্বরত সিভিক পুলিশদের এই বিষয়টি বলে ওঁত পেতে তাদের ধরবার জন্য বলা হয়। প্রতারক সাহিল প্রস্তাব গিলে নিয়ে তার সঙ্গী ৪ জন কে পাঠায় এক ওলা ক্যাবে করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। এদিকে দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ওঁত পেতে বসে থেকে সিভিক পুলিশরা বারুইপুর উড়াল পুলের কাছে ওলা ক্যাব যেতেই হাতে নাতে ধরে ফেলে সাহিল গুপ্তর সঙ্গী চার প্রতারক চন্দন চক্রবর্তী, গণেশ মাইতি, সুভাস দাস ও আব্দুল্লা শেখ কে। এদের মধ্যে আব্দুল্লার বাড়ি নদীয়াতে, বাকি তিন জনের বাড়ি বালি ও বেলুরে। গাড়ির চালক গণেশ মাইতি। খবর দেওয়া হয় বারুইপুর থানার পুলিশ কে। পুলিশ বিকালে হাসপাতাল থেকে তাদের হাতে নাতে গ্রেপ্তার করে। যদিও ঘটনার আঁচ পেয়ে পলাতক মূল অভিযুক্ত সাহিল গুপ্ত। পুলিশ তার সন্ধানে তল্লাসি চালাচ্ছে। এই চক্রটি ৫ -৭ জনের কাছে এই ভাবে হাসপাতাল, ব্যাঙ্কে চাকরি দেবার নাম করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

Leave a Reply