সত্যজিৎ ব্যানার্জি, বারুইপুর; বাঙালির সবুজ পাহাড়ে ঘেরা দার্জিলিং বার বার পিছু টানে। এবার সেই দার্জিলিং হাতের মুঠোয় বারুইপুরের প্রগতি সংঘের রজত জয়ন্তী বর্ষের দুর্গোৎসবে। প্রতি বছর চমক টানে এই পুজা। এবার মণ্ডপের প্রবেশের এক পাশে পাহাড়ে চা বাগানে চা তুলতে ব্যস্ত চা শ্রমিকরা, পাহাড়ের নিচ দিয়ে বয়ে আসছে ঝর্না, চা বাগানের কাছে রোপওয়ের স্টেশন থেকে একে একে ছাড়ছে রোপ ওয়ে আর মণ্ডপের আর এক পাশে সবুজ পাহাড়ের উপরে পাইন, নিম সহ একাধিক গাছের ছড়াছড়ি। পাহাড়ের উপরে বৌদ্ধ মঠ যা দেখতে হলে যেতে হবে পাহাড় কেটে কেটে পথ দিয়ে। পাহাড়ের তলার সুরঙ্গ দিয়ে এঁকে বেঁকে চলেছে টয় ট্রেন, এই দৃশ্য দেখতে দেখতেই শৈল শহরে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করবে শৈল মন্দিরে।

ঢোকার মুখে দুই পাশের দেওয়ালে দার্জিলিং এর ঘর সাজানোর কাজে লাগা বিভিন্ন মাক্স, সিলিঙে ঝুলছে তিব্বতি হরেক রকম ঘণ্টা। ভেতরে মা দুর্গা পাহাড়িয়া পোশাকে পাহাড়ি মানবী হিসাবে তার পরিবার নিয়ে। পাহাড়িয়া বেশে অসুর দারোয়ান, পাহাড়িয়া মেয়ে সরস্বতী বৈঠক খানায় বসে উল বুনছে, মা লক্ষ্মী পাহাড়িয়া রান্না ঘরে রন্ধনে ব্যস্ত, শিব নিদ্রায় মগ্ন, পাহাড়িয়া পোশাকে মানবি মা দুর্গা ছোট গণেশ কে খাওয়াতে ব্যস্ত আর কার্ত্তিক জানালায় বসে দেখেছে দার্জিলিঙের মনোরম টাইগার হিল এর সূর্যদয়।

এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে পুজা মণ্ডপে। শিল্পী পশ্চিম মেদিনীপুরের অভিজিৎ পাত্র জানান, মণ্ডপে ঘর সাজানোর জন্য থাঙ্কার পেন্টিং ব্যবহার করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা জানালা থেকে দেখতে পাবে টাইগার হিল। এর পাশাপাশি ভেতরে সিলিং এ ঝুলবে বড় তিব্বতি ঘণ্টা, তাতে হবে রঙ বেরঙের আলোর ছটা। এছাড়া বৌদ্ধদের নানা অলংকারিক দিক, পাহাড়িয়া দুর্গার পাশাপাশি মা দুর্গা থাকবে সাবেকী রুপে। দার্জিলিং এর পরিবেশেই মা দুর্গা তার পরিবারকে নিয়ে। বসানো হবে এসি মেশিন।
স্থানীয় পুরপিতা তথা পুজা কমিটির সভাপতি তাপস ভদ্র জানান, মুখ্যমন্ত্রী তার ভাবনাতে দার্জিলিং কে গু্রত্ব দিয়েছেন। এই দার্জিলিং বার বার টানে। দার্জিলিঙে অস্থিরতা তৈরি করছে এক দল মানুষ। কেউ ভুলবে না এই সবুজ দার্জিলিং কে, তাই দার্জিলিঙে যেতে হবে বার বার। এই জন্যই দার্জিলিং কে তুলে আনা এবারের পুজোয়। বাজেট ৩৪ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। কমিটির সদস্য মুকুন্দ মুখোপাধ্যায় জানায়, রবিবার রাজ্যপাল উদ্বোধন করবেন। চন্দননগরের আলোক সজ্জায় ভরিয়ে দেওয়া হবে মণ্ডপ। সব মিলিয়ে বারুইপুরে দার্জিলিঙ দেখতে আসতেই হবে প্রগতি সংঘে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here