ছাত্রের হাত চিরে আঁকা নীল তিমির নকশা

সত্যজিৎ ব্যানার্জি, বারুইপুর; দক্ষিন ২৪ পরগনার ক্যানিং এর পর এবার বারুইপুরেও ব্লু হোয়েলের আতঙ্ক। মারণ গেম নীল তিমির থাবা এবার বারুইপুরে। বারুইপুরের মদারাট পপুলার অ্যাকাডেমির দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ত্রিদিব নস্করের হাতে নীল তিমির উল্কি দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায় পরিবারের লোকজনদের মধ্যে। ছেলের হাতে মাছের উল্কি দেখে ছেলেকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই বারুইপুর থানা ও বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়েছিল তার পরিবার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মদারাট বিশ্বাস পাড়ার বাসিন্দা উৎপল নস্করের ছেলে ত্রিদিব নস্কর গত দুই মাস ধরে নিজের মোবাইলে লুকিয়ে চুরিয়ে গেম খেলে চোদ্দ তম ধাপে চলে গিয়েছিল সে। তার দাবি, গেমের মাধ্যমে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পরিবারের কাউকে ক্ষতি করতে হবে। যদিও সেই কাণ্ড ঘটানোর আগেই ছেলেকে বাঁচাতে সমর্থ হয়েছেন তার পরিবারের লোকেরা। ত্রিদিবের বাবা ছোট ব্যবসায়ী। সোমবার উৎপল বাবু বলেন, কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছিলাম ছেলে কেমন চুপ চাপ, অনেক রাত পর্যন্ত মোবাইলে গান শুনত। ছেলে এই গেম থেকে বার হয়েছে এটাই ভালো। শনিবার সকালে ছেলের বাম হাতে মাছ আঁকা দেখে সন্দেহ হয়। সব অভিভাবকদের ছেলেদের উপর নজর রাখতে হবে। বারুইপুর থানার পুলিশ ত্রিদিবের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, কেন মারন গেমের খপ্পরে পড়ল তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। রবিবার রাতেই এক প্রস্ত কাউন্সেলিং করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে।

এদিকে পুলিশ কে ছেলেটি জানায়, মাস দুয়েক আগে থেকেই তার অ্যান্ড্রোয়েড ফোনে একটি লিঙ্ক আসে। সেখান থেকে গেম খেলতে শুরু করে সে। একের পর এক ধাপ পেরিয়ে ১১ তম ধাপে তাকে বলা হয় পরিবারের কারুর ক্ষতি করতে হবে। না হলে বাবা আর ভাইকে তুলে নিয়ে আসা হবে। ধীরে ধীরে গভীর রাত ধরে ভয়ের ছবি, গান শুনতে বলা হত। গত শুক্রবার গভীর রাতে নিয়ম অনুযায়ী ১৪ তম ধাপে পৌঁছে ছেলেটিকে নির্দেশ দেওয়া হয় ব্লেড দিয়ে হাত কেটে তিমির ছবি আঁকতে। এই গেমের জন্য সে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশের কাছে। এমনকি সে এও জানিয়েছে এই মারন গেম আর সে খেলবে না। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তার মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে। একই সাথে ছেলেকে মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply