নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর; স্কুলে পড়ুয়াদের গায়ে হাত না তোলার উপর কড়া নির্দেশিকা জারি করা হলেও প্রায়শই মারধরের ঘটনা শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু বারুইপুরের একটি স্কুলের বিরুদ্ধে এ বার শুধু খুদে পড়ুয়াকে মারধর নয়, তার মাকে ঘিরেও হেনস্থার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, এক অভিভাবকের মোবাইল কেড়ে একটি ক্লাসঘরে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। যদিও সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বারুইপুরের রাসমাঠের কাছে বাড়ি গোবিন্দ ও শুভ্রা দাসের। তাঁদের ছ’বছরের ছেলে উপায়ন , ওয়েলকিন ন্যাশনাল স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। অভিযোগ, ১১ই জুলাই টিফিন টাইমে বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল উপায়নের। তখন স্কুলের দুই শিক্ষিকা উপায়নকে মারধর করেন। উপায়নের মা শুভ্রা দাসের অভিযোগ, ‘টিফিনে বন্ধুদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। তারপর ওই দুধের শিশুকে কাঠের স্কেল দিয়ে বেধড়ক পেটান দুই শিক্ষিকা। আমার ছেলের কানের পাশে কেটে যায়। প্রথমে ও কানে শুনতেও পাচ্ছিল না।’ উপায়নের মায়ের অভিযোগ, পরদিন স্কুলের প্রিন্সিপালকে গোটা ঘটনাটি জানালে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি। আপনি কোথাও কোনও অভিযোগ জানাবেন না।’

এই ঘটনায় বারুইপুর চক্রবর্তী পাড়ার বাসিন্দা শুভ্রা দাস জানান, এই ঘটনার পর আমার ছেলেকে মারের কারণ ও আঁকার খাতা পাওয়া যাচ্ছে না তা জানাতে শনিবার সকাল ১১ -৩০ মিনিটে স্কুলে যাই। আমি ক্লাস শিক্ষিকা তিয়াসা ম্যাডাম কে এই বিষয়ে কথা বলার সময় তানিয়া ম্যাডাম আমাকে স্কুলের সিঁড়ির পথ আটকে জানায় কেন অভিযোগ করতে এসেছি, এটা আমাদের স্কুল। ছেলেকে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ জানাতে এসেছেন? স্কুলের বদনাম করতে এসেছেন? এই বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। অভিভাবিকা শুভ্রা দাসের অভিযোগ, আমাকে ঘরের মধ্যে আধ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়, মারধোর করা হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে স্কুলের এক আয়া আমাকে ঘর থেকে বার করে। আমার মাকে ফোন করতে মা এসে আমাকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাতে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করি। এই বিষয়ে স্কুলের শিক্ষিকা তানিয়া মুখোপাধ্যায়কে ফোনে ধরা হলে তার ফোন সুইচ অফ পাওয়া যায়। স্কুলের অধ্যক্ষ ম্যাডাম নিবেদিতা বসু রায় জানান, মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে। শিক্ষিকাকে ধাক্কা মারা ও অভব্য আচরন করে ওই অভিভাবিকা। স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। কোনও মারধরের ঘটনা ঘটেনি। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply