চাম্পাহাটির হাড়ালে বাজি কারখানায় বারুদে বিস্ফোরণ, আগুন, মৃত মালিক, আহত মালিকের দাদা

1
1093

সত্যজিৎ ব্যানার্জি, বারুইপুর; আবার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, তীব্র আওয়াজে কেঁপে উঠলো গ্রাম। ঘটনায় বাজি কারখানার দুই ভাইয়ের মধ্যে কারখানার মালিক ছোট ভাই ঘটনাস্থলেই মারা যান। বড় ভাইকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাইপাস সংলগ্ন এক নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের নাম অশোক মণ্ডল (৩৬), গুরুতর আহত তার দাদা প্রদীপ মণ্ডল।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুর ১২ টা নাগাদ বারুইপুর থানার চাম্পাহাটি হাড়ালের গায়েন পাড়ায়। এই ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বাজির বারুদ রাখা ১১ টি ড্রাম একের পর এক ফাটতে থাকে। কারখানার অ্যাসবেসটসের চাল ও একের পর এক বিম বিস্ফোরণে উড়ে যায়। এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। আগুনে কারখানা ঢেকে যায়।

বিস্ফোরণে আগুনের তীব্রতা এত ছিল যে ৩০ ফুট উঁচুতে থাকা নারকেল, তাল গাছ, খিরিশ গাছ আগুনে পুড়ে যায়। কারখানার আশপাশের কয়েকটি বাড়ির চাল উড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুর থেকে জল এনে আগুন নেভাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর দেওয়া হয় বারুইপুর দমকলে ও বারুইপুর থানায়। বারুইপুরের দমকল কেন্দ্র থেকে ২ টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনাস্থলে যায় বারুইপুরের এসডিপিও অর্ক ব্যানার্জি ও বারুইপুর থানার আইসি অরুপ ভৌমিকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বারুইপুর থানার পুলিশও দমকল বাহিনীর সাথে আগুন নেভাতে সাহায্য করেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায়, হাড়ালের গায়েন পাড়ায় বাড়ির ঠিক পাশেই বাজি তৈরির কারখানা। বছর ২০ এর বেশী সময় ধরে বাজি কারবার চালাচ্ছে অশোক মণ্ডল। এদিন সকালে কারখানার মালিক অশোক মণ্ডল আর দাদা প্রদীপ মণ্ডল দুই ভাই চরকি বাজি তৈরীর কাজ করছিল। পাশে রাখা ছিল ১১ টি ড্রাম ভর্তি বারুদ, প্রচুর চরকা। এই প্রসঙ্গে বাসিন্দা মিহির মণ্ডল জানান, দুই ভাই মিলে সকাল থেকে বসে ৬-৭ প্রকার বারুদের মশলা নিয়ে তাতে কেমিক্যাল মিশিয়ে চালাচালি করে মাখার কাজ করছিলেন। চরকি তৈরি হচ্ছিল। বারুদের মশলা মাখার সময় আচমকা বারুদের ড্রাম ফেটে বিস্ফোরণ হয়। কেঁপে ওঠে গ্রাম। আগুনে চারদিক ঢেকে যায়। এর খবর পেয়ে এসে দেখি অশোক মারা গিয়েছে, তার দাদা ছটপট করছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

আর এক বাসিন্দা প্রদীপ মণ্ডল জানান, বারুদের মশলা মাখার সময় বৈদ্যুতিক তারে মিস কানেকশন হয়ে একটি তার বারুদে এসে পড়ে। তাতে শর্ট সার্কিট হয়ে বিস্ফোরণ হয়, আগুন জ্বলে ওঠে। বিস্ফোরণের জেরে ঘটনাস্থলেই মারা যায় অশোক মণ্ডল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাড়াল মোড় থেকে মশলা নিয়ে এসে রোদে দিয়ে এদিন কাজ হচ্ছিল। বাজি তৈরীর সময় কোন সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি। মরে যাওয়ার পরে শুধু পোশাক দেখা যায়। পায়ে চটি, হাতে গ্লাভস কোনটাই ছিল না এদের। দাদা প্রদীপ মণ্ডলকে ২০১৬ সালে বারুইপুর থানায় বেআইনি বাজি মজুতের জন্য গ্রেপ্তার করেছিল।

এই কারখানার পাশে মালিক অশোক মণ্ডলের বাড়িতে দেখা যায় প্রচুর চরকার বাজির প্যাকেট মজুত আছে। দুইজনের বাড়িতেই তালা ঝুলছে। বাসিন্দারা জানায়, মৃত অশোক মণ্ডলের এক মেয়ে আর এক ছেলে আছে। তার দাদা প্রদীপ মণ্ডলের দুই মেয়ে। এদিকে চাম্পাহাটী হাড়াল বাজি ব্যবসায়ী সমিতির মুখপাত্র শঙ্কর মণ্ডল জানায়, অসতর্ক হয়ে কাজ করার জন্য এই পরিণতি, পরিবারের পাশে আছি। প্রসঙ্গত এর আগে ২০১৬ সালে এই হাড়ালে দুইবার বাজি বিস্ফোরণ হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে জেলার এক পুলিশ কর্তা জানান, কারখানার লাইসেন্স ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বাজির জন্য তল্লাসি চালানো হয়, আরও বাড়ানো হবে।

1 COMMENT

  1. Acha baruipur apnara to onek khabor rakhen o khabor sobei k dan o, amake ekta khabor deben, baripur collage er samne diya giya sarkari j sob project hochhe j khane, mane j khane alipur jel chole asbe , sei khane sarkari project chera j sob land polt kore bikri hoche sei gulo ki thik ache.jemon rikland devoloper bole jara land polt kore bikri korche ,.teder theke jomi kina ki thik hobe.amake plz janen.-

Leave a Reply