সত্যজিৎ ব্যানার্জি, বারুইপুর; বারুইপুরের মদারাটের বটতলায় দুই তলা বাড়ি ভুয়ো চিকিৎসক আর চৌধুরী ওরফে রশিদ চৌধুরীর। তার প্যাডে লেখা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আর মেডিসিন স্পেশালিষ্ট, এমবিবিএস, এমডি। এমনকি নিজের প্যাডেও লেখা আপেক্স, অ্যাপেলো, ভিসন কেয়ার নার্সিং হোমের সাথে যুক্ত। বৃহস্পতিবার সকালে মদারাটের বটতলায় তার বাড়িতে হানা দেয় বারুইপুর থানার পুলিশ। এই বাড়ির একতলায় তার চেম্বার। চেম্বারে সকাল থেকে হাজির রোগীরা ও তার পরিবার। কিন্তু ভুয়ো চিকিৎসক পুলিশ হানার খবর পেয়ে আগেই রোগী ফেলে রেখে চম্পট দিয়েছেন। বাড়ির কাজের লোককে বলে গিয়েছেন নার্সিং হোমে যাচ্ছেন।

বুধবার দুপুরে এই চিকিৎসকের চেম্বারে রোগী সেজে আসেন একটি তদন্তকারী সংস্থার সভাপতি রাজু ঘোষ। ওষুধ নেবার পর চিকিৎসকের কাছে তার সার্টিফিকেট দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। তারপর দেখা যায় তার সার্টিফিকেট সব ভুয়ো। কোন রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ছাড়াই তিনি তার কারবার চালাচ্ছিলেন টানা ১০-১২ বছর ধরে। এমনকি তিনি অ্যাপেলো, আপেক্স কোনও নার্সিং হোমেই বসেন না। এর পর বৃহস্পতিবার সকালে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রাজু ঘোষ। তারপর এদিন তার বাড়ীতে তল্লাসিতে যায় বারুইপুর থানার পুলিশ। তার চেম্বারে তল্লাসি চালিয়ে পুলিস অনেক ভুয়ো জিনিস উদ্ধার করে। তার চেম্বার তালা লাগিয়ে সিল করে দেয় বারুইপুর থানার পুলিশ।

জানা যায় বিষ্ণুপুরের নেপালগঞ্জের অ্যাডভান্স মেডিকেয়ার নার্সিং হোমের সাথে যুক্ত এই ভুয়ো চিকিৎসক। পাড়ার এই চিকিৎসকের এই কারবারে পাড়া পড়শিরা অবাক, অবাক রোগীর পরিবারেরা। বাসিন্দারা জানান, কি করে বুঝব এই ভাবে চিকিৎসক ভুয়ো! সোমবার থেকে শনিবার বাড়িতেই সকালে বসত এই চিকিৎসক। পাড়া পড়শি থেকে রোগীর পরিবার অবিলম্বে চিকিৎসকের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। বারুইপুর থানার পুলিশ ওই ভুয়ো চিকিৎসকের সন্ধানে তল্লাসি শুরু করেছে।

 

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here